
গত দুই বছরে নিহত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সংখ্যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত মানুষের সংখ্যার প্রায় তিনগুণেরও বেশি—এমন দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ডাকসু নেত্রী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে ইমি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহতদের নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হত্যার ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচনায় এসেছে।
তিনি দাবি করেন, এই সময়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা ও প্রতিশোধমূলক ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা জুলাইয়ে নিহত মানুষের মোট সংখ্যার প্রায় তিনগুণেরও বেশি।
ইমির বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ তাঁর বক্তব্য শেয়ার করে গত দুই বছরের রাজনৈতিক সহিংসতার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, ইমির দেওয়া ‘তিনগুণ’ সংখ্যার পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তালিকা, প্রতিবেদন বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই সময়ের নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। একইভাবে পরবর্তী দুই বছরে নিহত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও কোনো একক, সর্বসম্মত হিসাব প্রকাশ্যে নেই।
তবে ইমির এই দাবি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার এবং হত্যার অভিযোগ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই তাঁর এই বক্তব্য সামনে এলো।